কর্কট কাহিনী

লেখক: চন্ডী লাহিড়ী

হাসপাতালের কাজ শেষ হতেই ডাক্তার চক্রবর্তী সোজা বাড়ি চলে এলেন। ডাক্তারবাবু সিঁড়ি ধরে উঠলেন দোতলায়। গাড়ির পিছনটা খুলে একটা ছোট ঝুড়ি নিয়ে ড্রাইভারও উপরে উঠল। গরমকালের এই সময়টা রোগীদের আত্মীয়রা কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রায়ই ডাক্তারদের আমের ঝুড়ি পাঠায়। মিসেস চক্রবর্তীর একটু সন্দেহ হল, বোধহয় আমের ঝুড়ি নয়, বড় হাল্কা মনে হচ্ছে। যাইহোক ঝুড়িটা শোবার ঘরে এনে বাঁধনটা কেটে ফেলতেই চোখ কপালে উঠল।

আম নয়, লিচু নয়- পোকার মত কি সব প্রাণী কিলবিল করে বের হয়ে আসছে। এক লাফে তিনি খাটে উঠে তারস্বরে চিৎকার শুরু করলেন। ডাঃ চক্রবর্তী বাথরুমে। স্ত্রীর চিৎকার কানে গেলেও সাড়া দিলেন না। উল্টে কণ্ঠে কৌতুক এনে গান ধরলেন-- নেচে নেচে আয় মা শ্যামা।

বাথরুমে গান চলছে--এদিকে খাটের উপর শ্যামা মা তান্ডব-নৃত্য জুড়েছেন। মিসেস চক্রবর্তীর চিৎকারে আকৃষ্ট হয়ে রান্নাঘর থেকে রাঁধুনি পাঁচুদি এসে হাজির। খাটের উপর বাড়ির গিন্নি ভয়ার্ত মুখে দাঁড়িয়ে কিন্তু আশেপাশে চোর-ডাকাত নজরে পড়ছে না।

চেঁচাচ্ছেন কেন? হয়েছে কি?

-- কাঁকড়া।

-- কাঁকড়া!

সত্যিই ঝুড়ি থেকে সদ্যমুক্ত কয়েকটি কাঁকড়া খাটের নিচে চলে ফিরে বেড়াচ্ছে। একটি ঘর ছেড়ে বারান্দায় যাবার চেষ্টা করছে -কিন্তু সিমেন্টের মসৃণ মেঝেতে আটটা পা কাজে লাগিয়েও তারা তেমন এগোতে পারছে না।

পাঁচুদি গ্রামের মেয়ে, এখানে রন্ধন দপ্তরের সর্বময়ী কর্ত্রী হলেও তার গলায় কন্ঠী- ঘোরতর বৈষ্ণব। মাছ দু-একবার খেলেও কাঁকড়া কোনওদিন তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেনি। এতগুলি সঞ্চরমান অষ্টপদী প্রাণীকে মাত্র দুটি পা ও দুটি হাত দিয়ে কি করে সামলাবেন ভেবে পেল না।

তাছাড়া ডাক্তারবাবুর গানের ভঙ্গীতে বেশ বোঝা যাচ্ছে, তিনিই আমদানী করেছেন। হয়ত তাঁর নিজের খেতে ইচ্ছে হয়েছে। মেরে ফেলা চলবে না। তাছাড়া, সত্যি কথা বলতে কি কাঁকড়া কিভাবে মারতে হয় পাঁচুদি তা জানে না।

ডাক্তারবাবু বাথরুমে স্নান সেরে এঘরে এলেন। স্ত্রীর ভীত সন্ত্রস্ত মুখের দিকে একনজর তাকিয়ে কাঁকড়াগুলির সংখ্যা গুণে দেখলেন। খুব বড় সাইজ-যে রোগীর আত্মীয়রা উপহার দিয়েছে মনে মনে তাদের তারিফ করলেন। বস্তুত সমস্যা হল-কাঁকড়া তিনি কোনওদিন খাননি। শুনেছেন কাঁকড়া খুব উপাদেয়।

নিয়মিত খেলে না কি চোখের জ্যোতি বাড়ে, পেটের অনেক অসুখ সারে। কিন্তু কিভাবে কাঁকড়া মারতে হয়, রান্না করতে হয় এবং কিভাবে খেতে হয় এসব তাঁর জানা নেই। গৃহিনী মিসেস চক্রবর্তী কলকাতায় জন্মেছেন, মাছ মাংস ডিম সবই খান। মোগলাই, চৈনিক, ফ্রেঞ্চ, ইটালিয়ান রান্না পয়সা খরচ করে শিখেছেন। কিন্তু কেউ তাঁকে কাঁকড়ার কোনও রেসিপি দেয়নি।

ডাক্তার চক্রবর্তীর মনে পড়ে গেল, সত্যজিৎ রায়ের একটা ছবিতে কাঁকড়া বিছে দেখোছলেন। মানুষকে গোপনে মারার জন্য অপরাধীরা সেই কাঁকড়া বিছে ব্যবহার করেছিল। কাঁকড়া বিছের সেই সাঁড়াশীর মত দাঁড়া পিঠে খাড়া করে কাঁকড়ার দল এই মেঝেতে হাঁটছে। অনুসঙ্গটা মনে পড়তে ডাক্তারবাবুর মনে ভয় ধরে গেল একটু।

শোবার ঘর ছেড়ে পা টিপে টিপে ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালেন। রোজ এই সময় উড়িষ্যার এক ব্রাহ্মণ তাঁর বাড়িতে আসে- সদর দরজায় সিঁদুর-চন্দনের ফোঁটা লাগিয়ে ডাক্তারবাবুর বসার চেয়ারে প্রসাদী ফুল ছুঁইয়ে দশ পয়সা পায়। রোজকার মত আজও ঠাকুর দরজা ঠেলে ভেতরে আসতেই নজর গেল উপরে ডাক্তরবাবু দাঁড়িয়ে। ডাক্তারবাবু প্রতিদিন পয়সাটা ছুঁড়ে দেন, বাক্যব্যয় করেন না। - আজ কথা বললেন, ঠাকুর, তুমি তো পুরীর লোক। সমুদ্রে নিশ্চয়ই অনেক কাঁকড়া দেখেছ?

পুরীতে বাড়ি এবং কাঁকড়া দেখাটা যে গৌরবের বস্তু হতে পারে ঠাকুর জানত না। মহা উৎসাহে বলে ফেলল, কাঁকড়া? খুব জানি। সমুদ্রের কাঁকড়া এক একটা কচ্ছপের মত হয়। কাউকে কামড়ে ধরলে দফারফা।

--বলছ কি ঠাকুর!

ডাক্তারবাবুর গলার স্বরে বোঝা গেল তিনি ভয় পেতে শুরু করেছেন। ডাক্তার মানুষ যতদূর সম্ভব পুরিয়া মিকশ্চার ট্যাবলেট ইঞ্জেকশনে রোগ সারাবার চেষ্টা করেন। ছোটখাটো কাটাকাটি বাড়িতে করলেও বড়মাপের কাটাকুটির জন্য হাসপাতালে সার্জেন আছেন। অপারেশনের ঝামেলা সার্জেনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। ছাত্রাবস্থায় ব্যাং গিনীপিগ দু-একটা যা কেটেছেন সবই বন্ধুদের সাহায্যে। কাঁকড়া কোনওদিন কেটেছেন বলে মনে পড়ছে না। কিন্তু বুঝলেও ভাঙবার পাত্র নন তিনি। ঠাকুর মশাইকে বুঝতে দিলেন না যে তিনি ভয় পেয়েছেন।

-- তা ঠাকুরমশাই, আপনি কাঁকড়া ধরতে পারেন ?

পুরীর সমুদ্রতীরে বাস করার গৌরব এবার টিকিয়ে রাখা শক্ত। ঠাকুরমশাই মানে মনে কৌশলে আত্মরক্ষার উদ্যোগ নিলেন।

-- কাঁকড়া মারতে হবে? কি রঙের কাঁকড়া? কালো না বাদামী?

ডাক্তরবাবু ঘরের মধ্যে গিয়ে একবার কাঁকড়াগুলো ভাল করে দেখে নিলেন। তলপেট একটু বাদামী হলেও পিঠের রং শাদা। ফিরে এসে ঠাকুরকে বললেন, মনে হচ্ছে কালো রং।

-- ঠিক বলেছেন। কালো রংএর কাঁকড়াই এ সময়টায় ধরা পড়ে। খবরদার মারবেন না বাবু। ব্রাহ্মণ কাঁকড়া মারলে মহাপাপ! আমাদের দেশে কালো কাঁকড়া খায় না, ধরা পড়লে জলে ফেলে দেয়।

বুদ্ধির জোরে কম্পিত রীতিনীতি দেখিয়ে ঠাকুর উদ্ধার পেল। চলে গেল সে। এদিকে ডাক্তারবাবুর বিপদ। কাঁকড়াগুলি তিনিই সঙ্গে এনেছেন, তারা নিজেরা আসেনি। নিজের মনে নিজের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ জমে উঠল।

বাড়ির গৃহিণী খাটের ওপর তখনো দাঁড়িয়ে - উদ্ধারের প্রতীক্ষায়। কথা বলছেন না, তাঁর গলা শুনতে পেলে কাঁকড়ারা হয়ত তাঁর দিকে ধাওয়া করবে। বাড়ির রান্নার লোক, তাঁর প্রধান পরামর্শদাতা, পাঁচুদি রান্নাঘরের দরজায় খিল দিয়েছে। কাঁকড়া মারতে তার বৈষ্ণব মনের সায় নেই। লাউ, কুমড়ো, কচু, মূলো, ওল, আলু, পটল অনেক বস্তুই ভগবান খাবার জন্য দিয়েছেন। রান্না কর আর খাও।

কাঁকড়ার ওপর নজর কেন?

উৎকলী ব্রাহ্মণের গলার স্বর থেকেই বোঝা গিয়েছিল, কাঁকড়াকে সে বিলক্ষণ ভয় করে। মিথ্যা গ্রাম্য রীতিনীতির কথা শুনিয়ে সে কেটে পড়েছে।

--ঠিক আছে, কারও সাহায্যের দরকার নেই। আমি একাই কাঁকড়া মারব। দেখি কে বাধা দেয়। বাধা কেউ দেয়নি।

তবু কাল্পনিক শত্রুর প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে ডাক্তারবাবু রণাঙ্গণে প্রবেশ করলেন। সাঁড়াশীর মত দাঁড়া উঁচিয়ে কাঁকড়ারা নির্ভয়ে চলাফেরা করছে। ডাক্তারবাবু দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ালেন।

-- হেবো, হেবো তুই আয় আমার সঙ্গে।

হেবো অর্থাৎ হাবু ডাক্তারবাবুর কম্পাউন্ডার। এক সময়ে ডাক্তারবাবুর বাড়িতে চাকরের কাজ করত। নিজের বুদ্ধির জোরে নানারকম কাজ শিখে এখন ডাক্তারবাবুর কম্পাউন্ডার। হেবো ডাক্তারবাবুর সামনে এসে দাঁড়াল।

ডাক্তারবাবু বললেন, বঁটি লে আও।

রান্নাঘর ভেতর থেকে বন্ধ করে পাঁচুদি মালা জপ করছিলেন। ভয়ে ভয়ে দরজা একটু ফাঁক করে বঁটি বের করে দিলেন। হাবু তাই নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে হাজির। বঁটি হাতে নিয়ে দেখলেন, বিলক্ষণ ভারী। তর্জনীর আগা দিয়ে পরীক্ষা করে বললেন, ধার নেই একদম। এটা দিয়ে মাটি কোপানো যায়, কাঁকড়ার বডি কিরকম শক্ত জানিস! যত্তো সব নভিস!

-- এবার হুকুম হল, হাতুড়ি আছে? নিয়ে আয়।

কয়লার ঘর থেকে খুঁজতে পাওয়া গেল হাতুড়ি। বেশ ভারী হাতুড়ি। ডাক্তারবাবু দূর থেকে একটা কাঁকড়া তাক করে হাতুড়ি ছুঁড়ে মারলেন। হাতুড়ির হাতল হাতেই রইল। ভারী লোহাটা ছিটকে গিয়ে পড়ল খাটের ওপর মিসেসের পায়ে। যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠলেন তিনি।

পর পর দুটো উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় ডাক্তারবাবু ক্ষেপে গেলেন। শরীর পতন নয় মন্ত্রের সাধন। বললেন, দা নিয়ে আয় হেবো। দা দিয়ে কুপিয়ে শেষ করব সব।

বাড়িতে দা নেই অনেকদিন। হেবো বলল, ডাক্তারবাবু, অপরাধ নেবেন না। আমাদের হল ডাক্তারের বাড়ি। কতদূর দূর গ্রাম থেকে রুগীরা আসে। ডাক্তারের নাম শুনলে মড়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ওঠে। সেই ডাক্তারের বাড়িতে কি হাতুড়ি বাটালি শাবল কোদাল এসব মানায়। এসব হল চাষীদের জিনিস। তার চেয়ে আমি বরং কালপিটা নিয়ে আসি।

হেবোর কথায় ডাক্তারবাবু খুশ। তাঁর মনের মত কথা। হেবো চলে গেল নিচের ডিসপেনসারিতে। নিয়ে এল স্কালপেল, অর্থাৎ ডাক্তারী ছুরি। আর শিশিতে কি একটা তরল বস্তু: কিছু তুলো ব্যাণ্ডেজ এই সব।

হেবো অভিজ্ঞ কম্পাউন্ডার। মাঝে মাঝেই কিছু ছোট-খাটো অথচ জরুরী অপারেশন ডাক্তারবাবু নিজের চেম্বারেই করেন। হেবো অর্থাং হাবু তখন তাঁর ডান হাত। স্কালপেল গরম জলে ফুটিয়ে স্টেরিলাইজ করা, ক্লোরোফর্ম দিয়ে রুগীকে অজ্ঞান করা, ঘন ঘন ঘড়ি দেখা, ব্যাণ্ডেজ তুলো এই সব পর পর এগিয়ে দেওয়া এরকম আধা ডাক্তারী কাজে হাবু হাত পাকিয়েছে।

ডাক্তারবাবু লক্ষ্য করলেন, হাবু কেবল স্কালপেল আনেনি, শিশিতে ক্লোরোফর্ম তুলো ব্যাণ্ডেজ গরম জল সব কিছুই গুছিয়ে এনেছে। পাক্কা ব্যবস্থা।

স্নান শেষ করে অন্যদিন ডাক্তারবাবু আহারাদি করে একট ঘুমিয়ে নেন। আজ খাওয়া হয়নি। শরীর খুব ক্লান্ত। চেয়ারে বসে পড়লেন। চোখ বন্ধ করে পা দুটো চেয়ারে তুলে নিয়ে হুকুম দিলেন, তুই ক্লোরোফর্ম দিয়ে সবকটাকে অজ্ঞান কর। তারপর আমায় ডাকবি।

হেবোর বিদ্যে-বুদ্ধি এবার পাংচার হয়ে গেল। ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করতে হলে একটা নাক চাই। কাঁকড়ার শরীরে কোথাও নাকের খোঁজ পাওয়া গেল না। কাঁকড়াদের কি নাক থাকে না? কে জানে।

ডাক্তারবাবুর চোখে তন্দ্রা এসেছিল। হাবুর চিৎকারে চোখ খুলে হতভম্ব হয়ে গেলেন। চেয়ারের উপর পা তুলে বসলেও তার কোঁচা মেঝেয় লুটোচ্ছিল। দু দুটো কাঁকড়া তাদের শক্ত দাঁড়া দিয়ে কামড়ে ধরেছে কোঁচার খুট।

ব্যস, ডাক্তারবাবু নট নড়ন-চড়ন।

দূরে খাটের উপর মিসেস চক্রবর্তী, সামনে হাবু-অতএব কাপড় খুলে ফেলে যে বাঁচবেন সে উপায় নেই। তিনি ভয়ে কাঁপতে লাগলেন।

হেবো মনিবের এই নিদারুণ দুঃসময়ে একবার পুলিশ পুলিশ বলে চেঁচয়ে উঠল। ডাক্তারবাবু সম্বিৎ ফিরে পেলেন।

বললেন, -- একি চোর ডাকাত যে পুলিশ আসছে শুনে ভয়ে পালাবে। টেলিফোনটা দে।

টেলিফোন একহাতের মধ্যে ছিল। সেটা হাবু ডাক্তারবাবুর কোলে তুলে দিল।

ডাক্তারবাবু ফোন করলেন --

-- হ্যালো ফায়ার ব্রিগেড?

--হ্যাঁ, ফায়ার ব্রিগেড। কোথায় আগুন লেগেছে বলুন, জলের সাপ্লাই আছে তো?

-- না, আগুন নয় মশাই--একটু অন্য-রকম।

-- ম্যানহোলের মধ্যে বাচ্চা ছেলে তলিয়ে গেছে?

-- না, তা-ও নয়। এ বাড়িতে বাচ্চা নেই।

-- তাহলে? চার তলায় ষাঁড় উঠেছে? নামাতে হবে ষাঁড়টা? শিং আছে? গুঁতোয়?

-- না মশাই, ষাঁড় নয়, গরু নয়, মোষ নয়, ছাগল নয়।

-- তবে কি বর্ষায় বাড়ির ছাদ ধসে পড়েছে? চাপা পড়েছে কেউ? চট পট বলুন।

-- না, না।

-- বাড়ির কার্নিসে বাচ্চা ছেলে দাঁড়িয়ে নামতে পারছে না, -এ রকম কিছু।

-- না মশাই না। এ বাড়িতে বাচ্চা ছেলে নেই।

-- তাহলে, ইঁদারায় ছাগল পড়েছে?

-- আপনাদের কি মাথা খারাপ। কলের জলে কাজ সারি। ইঁদারা কোথায়?

-- ইলেকট্রিকের তারে ঘুড়ি আটকেছে, পেড়ে দিতে হবে?

-- কি আবোল তাবোল বকছেন! আমি বয়স্ক মানুষ, আপনাদের ঘুড়ি পেড়ে দেবার জন্য ডাকব কেন?

-- তবে? তবে কি লিফটে আটকে গেছেন? কারেণ্ট ফেল?

-- না, না, সেসব কিছু নয়। আমার বিপদ একটু অন্যরকম। কাঁকড়া--

-- কাঁকড়া? না কাঁকড়া বিছে?

-- কাঁকড়া! সুন্দরবনের এক চাষী আমায় খেতে দিয়েছিল। এখন কাঁকড়াই আমায় খেতে এগোচ্ছে। বাঁচান মশাই।

-- খুব সামান্য ব্যাপার। কাঁকড়া মারতে হলে সাঁড়াশী দিয়ে ধরুন। হ্যাঁ, সাঁড়াশী। কাঁকড়া ধরার মোক্ষম অস্ত্র সাঁড়াশী।

শেষ

No comments:

Post a Comment